সম্প্রতি দেশের পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিংহ আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে বায়ুদূষণের সঙ্গে শ্বাসযন্ত্রের রোগব্যধির সরাসরি কোন সম্পর্ক নেই। কিন্ত বাস্তবে দেখা যাচ্ছে রাজধানী সহ দেশের সব মেট্রো ও প্রায় সমস্ত বড় শহরে মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত। বায়ুদূষণের ভয়াবহতার নিরিখে বিশ্বের প্রথম ১০০টি শহরের মধ্যে অধিকাংশ শহর আমাদের দেশ ভারতবর্ষের অন্তর্গত। শুষ্ক আবহাওয়ার দরুণ শীতকালে এই শহরগুলিতে বায়ুদূষণের পরিমাণ বেশ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। শীতকাল জুড়ে দিল্লি, কলকাতা, খড়গপুর, গাজিয়াবাদ, আগ্রা, লখনৌ, কানপুর, বারানসী, আমবালা, অমৃতসর, পাটনা, ভুবনেশ্বর প্রভৃতি শহরগুলি ও তার সংলগ্ন অঞ্চলে বায়ুদূষণের পরিমাপ থাকে আশঙ্কাজনক (severe) বা অস্বাস্থ্যকর (unhealthy)। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজধানী দিল্লিতে শীতকালে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চালিয়ে যাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ছে। যানবাহন, রেল ও বিমান যোগাযোগে যেমন বাধা ঘটছে, তেমন বহু মানুষ (বিশেষত বৃদ্ধ ও শিশু) শ্বাসযন্ত্রের বিবিধ সমস্যায় জেরবার হয়ে যাচ্ছে। এতদিন দিল্লির দূষণের দায় পাঞ্জাবের কৃষকদের শতাব্দীপ্রাচীন নাড়া পোড়ানোর রীতির ওপর চাপিয়ে সরকার একপ্রকার নিশ্চিন্ত ছিল। কিন্তু হালে চাষের কায়দায় বদল এসেছে, নতুন যন্ত্রপাতি ব্যবহার হচ্ছে। নাড়া পোড়ানোর পরিমাণ আগের থেকে অনেক কম হলেও দিল্লি বা উত্তর ভারতে গঙ্গা অববাহিকায় দূষণ কমছে না, বরং ক্রমশ বাড়ছে। গত দশ বছরে পুরনো পেট্রোল ও ডিজেল গাড়ি ব্যবহারের ওপর নানান নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। অটো আরও আগে থেকেই গ্যাসের জ্বালানি ব্যবহার করে। তাহলে দিল্লি (বা অন্যান্য মেট্রো শহরে) বায়ুদূষণ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ কি?

দিল্লির দূষণের আবহে সকলের চোখে পড়ে গেছে ভারতীয় ভূখণ্ডের আদিমতম পর্বতমালা আরাবল্লী সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করার পুরনো সরকারি-কর্পোরেট যৌথ পরিকল্পনা। মানুষের প্রতিরোধের সামনে সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করেছে যে আরাবল্লীতে খননের জন্য নতুন পাট্টা আপাতত দেওয়া হবে না। কিন্তু ২০১৮ সালের হিসাব অনুযায়ী আরাবল্লী পর্বতমালার কেবল রাজস্থানের অংশে ২৫% নিঃশেষ। পর্বতমালার ৫০টির বেশি পাহাড় খনন প্রক্রিয়ার দরুণ সম্পূর্ণ অবলুপ্ত। আরাবল্লী পাহাড় এক বিরাট দেওয়ালের মতো এতো বছর ধরে দিল্লি ও সংলগ্ন অঞ্চলকে থর মরুভূমির বালি আর পাঞ্জাবের নাড়া পোড়ানোর ধোঁয়া থেকে আড়াল করে এসেছে। আরাবল্লীর ঢালে ও পাদদেশে বিভিন্ন জায়গায় ঘন জঙ্গল ছিল। শহরের ফুসফুস সেই জঙ্গলের আজ চিহ্নমাত্র দেখা যায় না। এদিকে তন্দুর উনুন বন্ধ রেখে আর তিন কোটি টাকা খরচ করে 'মেঘের বীজ' বুনে দিল্লিতে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ করার অলীক পরিকল্পনা চালাচ্ছে সরকার।

কৃত্রিম বৃষ্টি কেন মুক্ত বাতাস দিতে পারে না

২০২৫ সালে শীতের শুরুতে দিল্লি সরকার জোর কদমে বায়ুদূষণ মোকাবিলায় নামে। আই আই টি কানপুরের তত্ত্বাবধানে সরকারি খরচে দিল্লির দূষণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ক্লাউড সিডিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। সরকার ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বারংবার ঘোষণা করে যে দিল্লিতে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত নামানোর এটাই প্রথম প্রচেষ্টা। অথচ বিশ্বে মেঘের বীজ বুনে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত নামানোর প্রথম প্রচেষ্টা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় শুরু হয়েছে। ভারতে প্রথম সফল ক্লাউড সিডিং হয় ১৯৫২ সালের ১৭ই আগস্ট কলকাতায়। ডঃ সুধাংশু কুমার ব্যানার্জির তত্ত্বাবধানে কুব কম খরচে যাদবপুর ও বালিগঞ্জে ভারি বৃষ্টিপাত ঘটানো সম্ভব হয়েছিল। হাইড্রোজেন বেলুন থেকে ড্রাই আইস, লবণ আর সিলভার আইওডাইডের মিশ্রণ আকাশে স্প্রে করা হয়। প্রথাগত ক্লাউড সিডিং পদ্ধতিতে এই কণাগুলি স্প্রে করা হয় বিমান থেকে। বিমানের পরিবর্তে বেলুন ব্যবহার করায় কলকাতায় সেই সময় মাত্র ১৮০০০ টাকা খরচ হয়েছিল। দিল্লি ও আমাদের দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ক্লাউড সিডিং এর ইতিহাসও বেশ পুরনো। দিল্লিতে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত করানোর প্রথম সরকারি প্রচেষ্টা হয়েছিল ১৯৫৭ থেকে ১৯৬৬ সালে। ক্লাউড সিডিং করে কৃত্রিম বৃষ্টি নামানোর অনেকগুলি সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছিল সেই সময়ে। ১৯৬৬ সালে ন্যাশানাল ফিজিক্যাল ল্যাবরেটরির তরফে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটি রিসার্চ পেপার প্রকাশিত হয়েছিল জাপানের মিটিওরোলজিক্যাল সোসাইটির জার্নালে। (1)

বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য এই প্রযুক্তি দিল্লিতে ব্যবহার করা যায় কিনা সে বিষয়ে জল্পনা শোনা যাচ্ছে ২০১৮ সাল থেকে। কারণ সেই সময়ে পশ্চিমঘাট পর্বতমালার বৃষ্টিচ্ছায়া অঞ্চলে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানোর প্রচুর সফল পরীক্ষা প্রতি বছরেই চালানো হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানা পৃথক রাজ্য হওয়ার পরে 'বারিশওয়ালা' প্রাইভেট কোম্পানিকে কোন রাজ্য কত টাকা দেবে তার রফা করতে দুই রাজ্য কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। মুম্বাইতে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত চালানোর প্রথম খবর শোনা যায় ২০০৩ সালে। বেদান্ত কোম্পানি ২০১৪ সালে রাজস্থানে কৃত্রিম বৃষ্টির বরাত দিয়েছিল আরেকটি প্রাইভেট কোম্পানিকে। এর মধ্যে অনেকগুলি বরাত পেয়েছিল ব্যাঙ্গালুরুর অগ্নি এরো কোম্পানিটি। এছাড়াও রয়েছে রেনটেক সলিউশন। আই আই টি কানপুরের মতো সরকারি সংস্থা। কোম্পানিগুলির বার্ষিক আয় ব্যয়ের হিসাব থেকে জানা যাচ্ছে ২০১৪- ২০১৫ সালে ভারতে প্রতি বর্গ কিলোমিটার পিছু ছিল এক লক্ষ টাকা। (4, 5) ২০২৫ সালে দিল্লিতে প্রতিবার বিমান ওড়ার জন্য খরচ হয়েছে ষাট লক্ষ টাকা। পুরো শীতকাল জুড়ে দিল্লিতে ক্লাউড সিডিং করার খরচ প্রায় ২৫ কোটি টাকা।

জাতীয় ক্ষেত্রে পরিবেশ দপ্তরের অধীন CAIPEEX প্রজেক্ট (Cloud Aerosol Interaction and Precipitation Enhancement Experiment) কৃত্রিম বৃষ্টিপাত সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সঞ্চালনা ও পরিচালনা করে থাকে। বৃষ্টি-ছায়া এবং খরাপ্রবণ অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির পদ্ধতি হিসেবে মেঘ বীজের কার্যকারিতা বৈজ্ঞানিকভাবে মূল্যায়ন করা এই প্রজেক্টের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য। CAIPEEX জানাচ্ছে যে মহারাষ্ট্রের সোলারপুর অঞ্চলে ২০১৭ - ২০১৮ সালে ১৮% অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত করানো সম্ভব হয়েছে। খুব সম্প্রতি রাজস্থানে ড্রোন ব্যবহার করে এরোসল স্প্রে করে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানোর প্রচেষ্টা হয়েছে। সুতরাং ভারতে তো বটেই দিল্লিতেও ক্লাউড সিডিং এর ইতিহাস খুব নবীন নয়। তাহলে সরকার ও সংবাদ মাধ্যম কেন বর্তমান ক্লাউড সিডিং এর ঘটনাটিকে দিল্লিতে প্রথম প্রচেষ্টা / পরীক্ষা বলে ঘোষণা করছে?(3, 11)

২০২৩ ও ২০২৪ সালেও দিল্লিতে বর্ষাকালে আর শীতের শুরুতে দূষণ নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কৃত্রিম বৃষ্টিপাত প্রযুক্তি ব্যবহার করার কথা হয়। কিন্তু বর্ষায় সেই পরিকল্পনা বাতিল করা হয় এই সন্দেহে যে বর্ষাকালে ক্লাউড সিডিং করলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত বা বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।(2) ২০২৫ সালের জুন মাসের শেষে দিল্লিতে ক্লাউড সিডিং করে দূষণ নিয়ন্ত্রণের প্রকল্প নিয়েছিল সরকার। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকায় ক্লাউড সিডিং প্রকল্পটি আগস্টের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের ১০ তারিখ অবধি পিছিয়ে দেওয়া হয়। এই প্রকল্প বাতিল হওয়ার বা বাস্তবায়িত হওয়ার কোন সংবাদ আমাদের চোখে পড়ে নি। তবে ওই সময়ে দিল্লি শহরে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হয়ে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। গত দুই বছর ২০২৩, ২০২৪ সালের শীতকালে ক্লাউড সিডিং এর পরিকল্পনা বাতিল করা হয় (এবছরের মতোই) বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ১৫% এর কম থাকায়। দিল্লি অঞ্চলে শীতের শুরু থেকেই বাতাস শুষ্ক হতে থাকে। যথেষ্ট জলীয় বাষ্প বাতাসে মজুত না থাকলে আকাশে এরোসল স্প্রে করে বাষ্প ঘনীভূত করে মেঘ তৈরি করা সম্ভব হয় না। (6, 7, 8, 9, 10)

দেশজুড়ে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ব্যপ্তি দেখে মনে হয় সরকারের হাতে আগে থেকেই ক্লাউড সিডিং এর বিষয়ে যথেষ্ট তথ্য থাকার কথা। সেইসব তথ্যের সঙ্গে দিল্লিতে এধরনের পরীক্ষা চালানোর বিষয়ে বিগত দুই বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেক্ষেত্রে দূষণ নিয়ন্ত্রণে এটিকে প্রথম ক্লাউড সিডিং প্রচেষ্টা বলে গিমিক তৈরি করা শুধু হাস্যকর নয়, অত্যন্ত হতাশাজনক।

কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানোর প্রযুক্তিতে ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড বা সিলভার আইওডাইডের মতো লবণ বায়ুস্তরে এরোসল হিসেবে ছড়ানো হয়। মানুষ, প্রাণিজগত, জলস্তর, মাটি ও সার্বিক বাস্তুতন্ত্রের ওপর এইসব রাসায়নিকের কি প্রভাব সে বিষয়ে সরকারের কাছে যথেষ্ট গবেষণা লব্ধ তথ্য থাকার কথা। দূষণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ক্লাউড সিডিং এর গিমিক তৈরি করার আগে সেই তথ্য জনগণের সামনে উপস্থিত করা কি আশু প্রয়োজন নয়?

শীতকালে দিল্লি থেকে কলকাতা এই পুরো অঞ্চল জুড়ে ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকে। জলবায়ুর স্বাভাবিক চলনেই শীতকালে উত্তর ভারতের বিশাল সমভূমিতে বিশেষত গভীর রাত বা ভোরবেলা কুয়াশা তৈরি হয়। গভীর রাত বা ভোরে মাটি যখন সব থেকে ঠাণ্ডা তখন মাটির কাছাকাছি থাকা জলীয় বাষ্পের ঘনীভবন ঘটে। বাতাসে থাকা ধুলো, ধোঁয়ার কণা বা অন্যান্য কঠিন কণার ওপর জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়। একটা ধুলোকণাকে ঘিরে ছোট ছোট জলকণা জমা হয়, সেগুলো বাতাসে ভেসে বেড়ায়। ঘাসের ডগায় বা গাছের পাতায় সেই জল যখন বিন্দু বিন্দু জমা হয়, তা ঝরে পড়ে মাটিতে। একে আমরা বলি শিশির। কুয়াশা তৈরি হতে প্রয়োজন বাতাসে প্রয়োজনীয় জলীয় বাষ্প, বাতাসে ভেসে থাকা ধুলো বা অন্যান্য কণা আর মাটির কাছাকাছি স্বল্প তাপমাত্রা (dew point)। উত্তর ভারতের নদী অববাহিকায় দূষণের কারণে বাতাসে কঠিন কণার অভাব নেই। দিল্লি ও সংলগ্ন অঞ্চল শীতকালে যে ঘন কুয়াশায় আবৃত হয় তার কারণ জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কণা (condensation nucleus) বাতাসে প্রচুর পরিমাণে মজুত রয়েছে বিভিন্ন জ্বালানি পোড়ার ধোঁয়া ও নির্মাণ শিল্পের ধুলো হিসেবে। তথ্য বলছে দিল্লির বাতাসে কঠিন কণা (particulate matter বা PM2.5 এবং PM10) মাত্রাতিরিক্ত।

ক্লাউড সিডিং এর সময়ে যে কঠিন লবণ কণাগুলি বাতাসে ছড়ানো হয় সেগুলি condensation nucleii হিসেবে কাজ করে। এই কণাগুলির ওপর জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়। বাতাসে যথেষ্ট বাষ্প মজুত থাকলে বৃষ্টি / তুষারপাত ঘটবে। নচেৎ বিশেষ তাপমাত্রায় এগুলি কুয়াশা বা ফগ তৈরি করতে পারে। বিগত তিন বছর ধরে ক্লাউড সিডিং করে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রের যে প্রচেষ্টা সরকার চালিয়েছে তাতে বৃষ্টি হয় নি, দূষণমুক্ত বাতাস মেলে নি। কিন্তু এই পরীক্ষা চালানোর ফলে কুয়াশার সমস্যা কি বেড়েছে? (13) সরকার সে বিষয়ে কোন সমীক্ষা চালিয়েছে কি? সেইসব তথ্য জনগণের সামনে নিয়ে আসা সরকারের আশু কর্তব্য। (14)

আমাদের দেশে ক্লাউড সিডিং প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতার প্রয়োজন কিনা তা সকলকে ভেবে দেখতে অনুরোধ করবো। কারণ কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের পরীক্ষা নিরীক্ষা কোন ল্যাবের বন্ধ কুঠুরিতে চালানো হচ্ছে না। কেমিক্যাল মিশ্রিত জল ঝরে পড়ছে মাটিতে, মানুষের মাথায়। ক্লাউড সিডিং এর মতো জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি আমাদের মাথার ওপর প্রয়োগ করার আগে জনগণের সম্মতির প্রয়োজন পড়ে। কারণ ক্লাউড সিডিং ও অন্যান্য যাবতীয় জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি সেই ১৯৭৬ সাল থেকেই যুদ্ধাস্ত্রের তালিকাভুক্ত।(12) ভারতসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্র এই অস্ত্র (জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি) কোন শত্রু দেশের ওপর প্রয়োগ না করার আন্তর্জাতিক চুক্তিতে আবদ্ধ। সেই যুদ্ধাস্ত্রকে আজ প্রযুক্তিবিদ্যার আশীর্বাদ হিসেবে পেশ করা হচ্ছে, নির্বিচারে প্রয়োগ করা হচ্ছে দেশের জনগণের ওপর। মজার বিষয় হল আমাদের ল্যাবের গিনিপিগ বানানোর খরচ আমরাই বহন করছি!

চিকেন তন্দুরি ও মুক্ত বাতাস চাই!

দেশের পরিবেশ মন্ত্রক দিল্লির দূষণের বিষয়টিকে তাচ্ছিল্যের চোখে দেখলেও তথ্য বলছে দিল্লি শহরে PM2.5 ও PM10 এর মাত্রা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা অন্যান্য স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নির্দেশিকা বলছে যে দিল্লির বাতাসে যে পরিমাণে কঠিন কণা বা PM নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে তার দরুণ শ্বসনতন্ত্রের বিবিধ উপসর্গ ও ব্যাধি দেখা দিতে পারে। দিল্লি শহরে এই ধরনের কণার উৎস নিয়ে প্রচুর গবেষণা বিগত অনেক বছর যাবৎ চলেছে। এই উৎসগুলির বিষয়ে আমাদের কিছু বক্তব্য এখানে তুলে ধরতে চাই :

ক) PM10 কণার আয়তন অপেক্ষাকৃত বড়। জ্বালানি পোড়ানোর দরুণ তৈরি হওয়া কার্বন বা অন্যান্য কঠিন কণা, নতুন নতুন নির্মাণ প্রকল্পগুলির ধুলো, রাস্তার ধুলো ছাড়াও থর মরুভূমির বালি PM10 কণার মুল উৎস। বিগত বহু বছর ধরেই আরাবল্লী পর্বতের ঢাল কেটে নির্মাণ শিল্পের জন্য মার্বেল ও অন্যান্য পাথর জোগান দেওয়া হয়, তৈরি হয় সিমেন্ট বা ইট। আরাবল্লী ধ্বংসের সঙ্গে এই অঞ্চলে ধুলো ও বালির সমস্যার সরাসরি যোগ রয়েছে। আরাবল্লী ধ্বংস চিরতরে রুখে দিতে না পারলে কেবল যে বায়ুদূষণের সমস্যায় উত্তর ভারত জর্জরিত হবে তা নয়, থর মরুভূমিও ক্রমশ আয়তনে বাড়তে থাকবে। কৃষকদের নাড়া পোড়ানোর জন্য প্রচুর PM10 কণা উৎপন্ন হয়। কিন্তু বর্তমানে দিল্লির বাতাসে PM10 এর পরিমাপ ও ধরন দেখে অনুমান করা হচ্ছে যে বায়োমাস জ্বালানো এখন দিল্লি দূষণের মুল কারণ আদপেই নয়।

খ) গত বছর দুয়েক ধরে দেখা যাচ্ছে দিল্লির বাতাসে সব থেকে বেশি দূষণ সৃষ্টিকারী এবং বিপজ্জনক উপকরণ হল PM2.5 কণা। মরুভূমির বালি বা রাস্তা/ নির্মাণস্থলের ধুলো ছাড়াও বাতাসে PM2.5 এর মুল উৎস হল জীবাশ্ম জ্বালানির দহন। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, পেট্রোল/ ডিজেল চালিত যানবাহন, অগ্নি সংযোগের মাধ্যমে বর্জ্য সংস্কার PM2.5 দূষণের মুল কারণ। আর হ্যাঁ, চিকেন তন্দুরির মতো খাবার প্রস্তুত করতে PM2.5 তৈরি হয় বটে!

২০২৩- ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী ভারতে সব থেকে বেশি চালু প্রাইভেট গাড়ির নিরিখে রাজধানী দিল্লিকে টেক্কা দিয়েছে বেঙ্গালুরু। পুরনো পেট্রোল / ডিজেল গাড়ি ব্যবহার সংক্রান্ত বেশ কিছু পুরনো আইন কানুনকে দিল্লিতে সম্প্রতি কড়া ভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু দূষণের সমস্যা এখনও ভয়ঙ্কর। কারণ দিল্লি (Delhi NCR বা National Capital region) শহরে মোট গাড়ির সংখ্যা এখনও কলকাতা, মুম্বই ও চেন্নাই শহরের প্রাইভেট গাড়ির সংখ্যা যোগ করলে যা হয় তার থেকেও বেশি। রাজধানী দিল্লিতে বিলাসবহুল গাড়ির সংখ্যাও প্রচুর। দিল্লিতে যে ধরনের দামি স্পোর্টস গাড়ি বা 4x4 গাড়ি নিয়মিত রাস্তা বোঝাই করে চলে তা দেখলে অবাক হতে হয়। BS-VI অর্থাৎ সর্বাধুনিক আইনে স্বীকৃত গাড়ি হলেও বিপুল ক্ষমতাশালী এইসব গাড়ির ইঞ্জিন যে পরিমাণে পেট্রোল/ ডিজেল জ্বালানি দহন করে তাতে কার্বন ডাই অক্সাইড ছাড়াও প্রচুর PM2.5 কণা উৎপন্ন হয়। ইঞ্জিনের ক্ষমতা যত বেশি, জ্বালানির খরচ এবং জ্বালানি দহনের ফলে দূষণও তত বেশি। গাড়ি যখন কেবল পরিবহনের উপকরণ নয়, গাড়ি যখন হয়ে ওঠে সামাজিক স্ট্যাটাস তখনই দেখা যায় যে শহরে যানবাহনের গড় গতি ঘণ্টায় ২৫কিলোমিটার সেখানে ২০০০ সিসি ইঞ্জিনের প্রাইভেট গাড়ি রমরমিয়ে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়াও রয়েছে জেনারেটরের ব্যবহার। দিল্লিতে খুব কম জায়গা রয়েছে যেখানে নিয়মিত অবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া যায়। সারা বছর দিল্লি NCRএর বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে ২-১০ ঘণ্টা কারেন্ট থাকে না। বহুতল বাড়ি, অফিস, দোকানবাজার, বিলাসবহুল বাংলো - সব জায়গায় বিদ্যুতের জোগান অক্ষুণ্ণ রাখতে ব্যবহার হয় জেনারেটর। আর জেনারেটর মানেই ডিজেল ইঞ্জিন। পুরনো জেনারেটরের ব্যবহার সংক্রান্ত আইনকানুন কিন্তু পুরনো যানবাহনের আইনের মতো কড়া নয়। জেনেরেটরের ডিজেল ইঞ্জিন প্রচুর পরিমাণে PM2.5 এবং PM10 নিঃসরণ করে। সরকার বহু বছর ধরেই রাজধানী দিল্লিতে চাহিদা মতো বিদ্যুতের জোগান দিতে অক্ষম। তাই দূষণের ক্ষেত্রে জেনেরেটরের ভূমিকা নিয়ে সরকার একদম চুপ। কেবল তন্দুর উনুন বন্ধ রেখে বায়ু দূষণের সমস্যা থেকে আদৌ মুক্তি পাওয়া যাবে কি?

গ) সালফার ডাই অক্সাইড বা নাইট্রোজেনের বিভিন্ন অক্সাইড বায়ু দূষণের অন্যতম কারণ। যে কোন ধরনের জীবাশ্ম জ্বালানি বা প্রাকৃতিক গ্যাসের দহনে এগুলি উৎপন্ন হয়। এই গ্যাসগুলি সরাসরি যেমন শ্বসনতন্ত্রের ক্ষতি করে তেমন পরোক্ষ ভাবে এগুলি PM2.5 এর পরিমাণ বৃদ্ধি করে। দিল্লির বাতাসে এই গ্যাসগুলি অতিরক্ত পরিমানে রয়েছে। ডিজেল ইঞ্জিন এবং তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এধরনের দূষণের মুল কারণ। দিল্লি শহরকে ঘিরে যে ঘন জঙ্গল বছর কুড়ি আগেও চোখে পড়ত তা আজ সম্পূর্ণ উধাও। তাছাড়া আমাদের দেশে যানবাহন বা কলকারখানার ক্ষেত্রে কার্বন নিঃসরণের আইন যতটা কড়া, অন্যান্য দূষণকারী গ্যাসের ক্ষেত্রে সরকারি বিধি যথাযথ নয়। যেমন বিভিন্ন গাড়ির মডেলে সালফার ডাই অক্সাইড বা অন্যান্য দূষণকারী গ্যাসের নিঃসরণ সংক্রান্ত প্রায় কোন তথ্য কোম্পানিগুলি প্রকাশ করতে বাধ্য নয়। দিল্লির ৩০০কি মি ব্যাসার্ধের ভিতর বেশ কয়েকটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে অনেক বছর ধরে। দিল্লি শহরের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি বা উত্তর ভারতের পাওয়ার গ্রিডের বিদ্যুৎ যথেষ্ট নয়। বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণ করতে মানুষ জেনেরেটর ব্যবহার করে আরও বেশি দূষণ তৈরি করছে। বহুতল এপার্টমেন্ট বা বিলাসবহুল বাংলোর বিদ্যুতের চাহিদাও আকাশছোঁয়া। প্যাসেজ, সিঁড়ি দিবারাত্র আলোকিত থাকে। জল তোলার জন্য ব্যবহার হয় শক্তিশালী পাম্প। সেইসব বাড়ির বাসিন্দারা সারা বছর বাঁচে একটি কৃত্রিম বুদবুদের মধ্যে - যেখানে গরমে এসি আর শীতে হিটার চলে।

দিল্লি সহ দেশের সমস্ত শহরে বায়ুদূষণের মুল কারণ হল অপরিকল্পিত নগরায়ন। রাস্তার ধারে কয়লার উনুন বন্ধ করে বা ক্লাউড সিডিং করে বৃষ্টি নামিয়ে বায়ুদূষণের সমস্যা থেকে বাঁচা যাবে না। উন্নয়নের যে মডেল আমাদের দেশে চালু রয়েছে তাতে সরকারি হিসাব অনুযায়ী ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ৫০-৭০% মানুষ বাস করবে শহরে। অথচ আমাদের দেশের শহরগুলিতে বর্তমান বাসিন্দাদেরকেই মুক্ত বাতাস, পরিশ্রুত পানীয় জল, স্বাস্থ্যকর বাসস্থান, চাহিদা অনুসারে বিদ্যুৎ দিতে সরকার অক্ষম। পাশাপাশি রয়েছে ধনীদের বিলাসবহুল জীবনযাপন। একজন গরীব মানুষ আগুন জ্বালিয়ে রান্না করলে যে পরিমাণ বায়ুদূষণ হয় তার থেকে বহুগুণ বেশি বায়ুদূষণ হয় একটি ২০০০ সিসি গাড়িতে একটিমাত্র মানুষ শহর জুড়ে নিত্যদিন চলাফেরা করলে, সর্বক্ষণ এসি বা হিটার চালালে, বাংলো/ এপার্টমেন্টে অবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য জেনারেটর ব্যবহার করলে। আমাদের অর্থনৈতিক কাঠামোতে যেমন ধনী ও দরিদ্রের আয়- ব্যয়ের হিসাবে প্রচুর ফারাক রয়েছে, তেমনই কার্বন ফুটপ্রিন্টের হিসাব করলেও দেখা যাবে অসাম্য। মাথাপিছু দূষণের হিসাব ধরলে তন্দুর উনুনের বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছে আজকের চালু উন্নয়নের মডেল। এই চালু উন্নয়নের মডেলে একদিকে যেমন পরিকল্পনাহীন কংক্রিটের জঙ্গল গড়ে ওঠে, তেমনই এই মডেলে দেশের সরকার অর্থনৈতিক অগ্রগতির নামে দেশের জল, জঙ্গল, জমি অবলীলায় বিকিয়ে দেয় কর্পোরেট মাফিয়াদের হাতে। আগ্রাসী কর্পোরেট লোভ প্রকৃতি - পরিবেশ - মানুষ - জীবজন্তুর তোয়াক্কা করে না, জীবন তার কাছে নিতান্ত মূল্যহীন। উন্নয়নের এই চালু মডেলের চালিকাশক্তি হল কর্পোরেট মুনাফা বা প্রফিট। তাই আরাবল্লী পর্বতমালায় খনিজ উত্তোলনের সময় পরিবেশবিধির তোয়াক্কা করে না তারা। হাজার বছরের পুরনো বনভূমী অনায়াসে কেটে সাফ করে দেয়। লাদাখ, কাশ্মীর, থেকে ছত্তিসগড়, ওড়িশা কিংবা নিকোবর সর্বত্র একই চিত্র।

নিয়মগিরির গল্প

প্রায় বছর কুড়ি আগের গল্প। ওড়িশার নিয়মগিরি পাহাড়ে বেদান্ত কোম্পানিকে বক্সাইট উত্তোলনের ব্যবস্থা করে দিয়েছিল তৎকালীন সরকার (কেন্দ্র ও রাজ্য এক যোগে)। স্থানীয় ডংরিয়া কোন্দ জনজাতির মানুষেরা নিয়মগিরি পাহাড়কে ঈশ্বর রূপে পুজো করে। কোন্দদের ১২টি গ্রামের জলের উৎস ওই পাহাড়। ডংরিয়া কোন্দ জনজাতির জীবন ও জীবিকা নিয়মগিরি পাহাড়ের জঙ্গলের ওপর নির্ভরশীল। বেদান্ত কোম্পানির প্রজেক্ট লাগু হলে স্থানীয় পরিবেশের ওপর প্রভাব পড়তো মারাত্বক। বক্সাইট উত্তোলনের জন্য জঙ্গল ও নদীটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেত। কোন্দদের ১২টি গ্রামের বাসিন্দাদের স্থানান্তরিত হওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকতো না। অথবা তাদের ভবিষ্যৎ হত সামান্য দিনমজুরির বিনিময়ে বক্সাইট খনিতে কাজ। বারোটি গ্রামসভা একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেয় বেদান্ত কোম্পানির প্রজেক্ট বন্ধ করার। এক দশক ধরে ধারাবাহিক সংহত প্রতিরোধের মধ্যে দিয়ে নিয়মগিরির মানুষ বেদান্ত কোম্পানির প্রজেক্ট রুখে দেয়। তাদের লড়াই এর গল্প আজ ইতিহাস হয়ে আছে। মাত্র ১২টি গ্রামের মানুষ সক্ষম হয়েছিল একটি ১২বিলিয়ন ডলারের মাল্টি ন্যাশানাল কোম্পানিকে রুখে দিতে। সেই কোম্পানিকে পুলিশ প্রশাসন দিয়ে সর্বতোভাবে সাহায্য করেছিল সরকার। কিন্তু স্থানীয় জনজাতি মানুষের একগুয়ে জেদের সামনে তারা দাঁড়াতে পারে নি। অতুল শক্তিধারী সরকার- কর্পোরেট যুগলের বিরুদ্ধে সাধারন মানুষের সেই লড়াই এর গান আজও সবার মুখে মুখে ফেরে :

“গাঁও ছোড়াব নাহি, জঙ্গল ছোড়াব নাহি,

মায় মাটি ছোড়াব নাহি,

লড়াই ছোড়াব নাহি।"

 

[জনস্বাস্থ্য মোর্চার মুখপত্র 'জনস্বাস্থ্য জনবার্তা' পত্রিকার বইমেলা ২০২৫ সংখ্যায় প্রতিবেদনটি পূর্বপ্রকাশিত। লেখক জনস্বাস্থ্য মোর্চার সদস্য এবং পেশায় শিক্ষক ]

তথ্যসূত্র :

1)https://www.researchgate.net/publication/316230402_Weather_Modification_in_India

2) At Rs 89 crore for 2 yrs, cloud seeding went through roof https://share.google/OxkxDgqyCn774fO8a

3) CAIPEEX Press Release: Press Information Bureau https://share.google/j8L3I17YvmMZRteUK

4) Pay ₹40.28 crore towards cloud-seeding, HC directs AP, TS - The Hindu https://share.google/fmzZ2N8bRqfEBFd68

5) Artificial rainfall: Cloud seeding companies may play rainmakers

Read more at:

https://economictimes.indiatimes.com/news/economy/indicators/artificial-rainfall-cloud-seeding-companies-may-play-rainmakers/articleshow/38885046.cms?utm_source=contentofinterest&utm_medium=text&utm_campaign=cppst https://economictimes.indiatimes.com/news/economy/indicators/artificial-rainfall-cloud-seeding-companies-may-play-rainmakers/articleshow/38885046.cms?from=mdr

6) Artificial rain trail in Delhi shifted to August-end:

https://www.bhaskarenglish.in/local/new-delhi/news/cloud-seeding-in-delhi-shifted-to-august-end-due-to-monsoon-flights-planned-over-rohini-bawana-burari-kundli-border-eastern-peripheral-corridor-for-indias-first-dgca-approved-test-135357295.html

7) Clouds over Delhi government's plan to induce rain amid air pollution

https://www.hindustantimes.com/cities/delhi-news/clouds-over-delhi-govt-plan-to-induce-rain-101700416986444.html

8) Artificial rain & cloud seeding in Delhi won’t work, ‘as ineffective as the smog tower’, say experts

https://www.moneycontrol.com/news/environment/artificial-rain-cloud-seeding-in-delhi-wont-work-as-ineffective-as-the-smog-tower-say-experts-11764291.html

9) তিন কোটি টাকা দিয়ে মেঘের ‘বীজ’ বুনেও কেন কৃত্রিম বৃষ্টি হল না দিল্লিতে? ব্যাখ্যা আইআইটি কানপুরের ডিরেক্টরের

https://www.anandabazar.com/india/why-cloud-seeding-failed-to-bring-rain-in-delhi-iit-kanpur-director-clarifies-dgtl/cid/1643696

10) Delhi: Artificial rain project postponed to August-end amid monsoon

Read more at:
https://economictimes.indiatimes.com/news/india/delhi-artificial-rain-project-postponed-to-august-end-amid-monsoon/articleshow/122180263.cms?from=mdr

11) Loksabha Q/A Cloud Seeding in India. https://share.google/G15Y8hVkZkm1pDgeb

2018 Loksabha Q/A session on cloud seeding

12) Convention on the Prohibition of Military or Any Other Hostile Use of Environmental Modification Techniques

https://disarmament.unoda.org/en/our-work/weapons-mass-destruction/convention-prohibition-military-or-any-other-hostile-use-environmental-modification-techniques

13) Effect of cloud seeding on aerosol properties and particulate matter variability in the United Arab Emirates https://share.google/eY5ydSlc4gHMmkJJt

14) জলবায়ু পরিবর্তন নাকি জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ - এ কোন সকাল …

লিখেছেন: অমর্ত্য https://jsm.org.in/bn/bojhapora/motaamot/103-climate-change-or-climate-control.html

লেখক সম্পর্কে

GRAPH_AVATAR_IMG
গৌরব মুখুটি